বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা! নামটা শুনলেই যেন একটা সিরিয়াসনেস চলে আসে, তাই না? স্বপ্নটা যখন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার, তখন প্রিলিমিনারি বৈতরণী পার হওয়াটা মাস্ট! আর সেই যাত্রায় আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু হতে পারে বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস (BCS Preliminary Syllabus)। ভাবছেন, সিলেবাস তো একটা লম্বা লিস্ট, এটা আবার বন্ধু হয় নাকি? আরে, ধরুন আপনার বন্ধু আপনাকে একটা ম্যাপ ধরিয়ে দিল, যেখানে লুকানো আছে সাফল্যের গুপ্তধন! অনেকটা তেমনই এই সিলেবাস। কোন পথে হাঁটবেন, কী কী পড়বেন, আর কী কী বাদ দেবেন – সবকিছুর একটা স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার।
তাহলে চলুন, আজ আমরা বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি, যেন এই ‘বন্ধু’টি আপনাকে সাফল্যের পথে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস: এ টু জেড গাইড
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসটা কিন্তু বিশাল! তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একটা গোছানো প্ল্যান থাকলে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। সাধারণত, এই পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন (MCQ) থাকে এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যায়। তাই আন্দাজে উত্তর দেওয়ার চেয়ে সঠিক উত্তর দেওয়াটা বেশি জরুরি।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসকে আমরা কয়েকটি মূল অংশে ভাগ করতে পারি:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (৩৫ নম্বর)
- ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (৩৫ নম্বর)
- বাংলাদেশ বিষয়াবলী (৩০ নম্বর)
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (২০ নম্বর)
- ভূগোল (ভূগোল ও পরিবেশ), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (১০ নম্বর)
- সাধারণ বিজ্ঞান (১৫ নম্বর)
- কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি (১৫ নম্বর)
- গাণিতিক যুক্তি (১৫ নম্বর)
- মানসিক দক্ষতা (১৫ নম্বর)
- নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন (১০ নম্বর)
এখন চলুন, প্রতিটি অংশের ভেতরে কী কী আছে, সেটা একটু ভালোভাবে জেনে নেই। কারণ, কোন টপিকটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর কোনটাতে একটু কম জোর দিলেও চলবে – সেটা জানাটাও জরুরি।
বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস পিডিএফ ডাউনলোড
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য: প্রস্তুতি কিভাবে নেবেন?
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশে ৩৫ নম্বর বরাদ্দ। এই অংশে ভালো করতে হলে বাংলা ব্যাকরণ এবং সাহিত্যের ইতিহাসে ভালো দখল থাকতে হবে।
বাংলা ব্যাকরণ
ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইটা খুব ভালোভাবে পড়ুন।
- ভাষা, বর্ণ, শব্দ, পদ: এই বিষয়গুলোর মূল ধারণা পরিষ্কার থাকতে হবে।
- কারক, বিভক্তি, সমাস, সন্ধি: এগুলো থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
- প্রত্যয়, উপসর্গ, বাক্য শুদ্ধি: এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলা সাহিত্য
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস অনেক বড়। তাই পুরোটা মনে রাখা কঠিন। তবে কিছু বিষয় মনে রাখতেই হবে।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগ: চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব সাহিত্য – এগুলো থেকে প্রশ্ন আসে।
- আধুনিক যুগ: এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত – এদের জীবনী ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানতে হবে।
- গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম: বিভিন্ন বিখ্যাত লেখকের উপন্যাস, কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
টিপস: বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করলে কোন টপিকগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সে সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য: কিভাবে প্রস্তুতি শুরু করবেন?
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যেও ৩৫ নম্বর। এখানে গ্রামার এবং লিটারেচার দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
ইংরেজি গ্রামার
গ্রামারের বেসিক রুলসগুলো ভালোভাবে জানতে হবে।
- Parts of Speech: Noun, Pronoun, Verb, Adjective, Adverb, Preposition, Conjunction, Interjection – এগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।
- Tense, Voice, Narration: এগুলো গ্রামারের মূল ভিত্তি।
- Subject-Verb Agreement, Conditional Sentences, Transformation of Sentences: এগুলো ভালোভাবে প্র্যাকটিস করতে হবে।
- Correct Spelling, Vocabulary, Idioms and Phrases: এগুলো মুখস্থ করার বিকল্প নেই।
ইংরেজি সাহিত্য
ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসটাও বেশ বড়।
- Age and Famous Writers: বিভিন্ন যুগের বিখ্যাত সাহিত্যিক এবং তাদের কাজ সম্পর্কে জানতে হবে। যেমন – Shakespeare, Wordsworth, Keats, Shelley, Dickens প্রমুখ।
- Literary Terms: Simile, Metaphor, Alliteration, Personification – এই শব্দগুলো প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
- Famous Quotes: বিভিন্ন লেখকের বিখ্যাত উক্তিগুলো মনে রাখতে পারেন।
টিপস: নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়ুন এবং নতুন শব্দ শিখুন। এতে ভোকাবুলারি বাড়বে এবং গ্রামারও ভালো হবে।
বাংলাদেশ বিষয়াবলী: জানার শেষ নেই!
বাংলাদেশ বিষয়াবলীতে ৩০ নম্বর। এই অংশে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী থেকে প্রশ্ন আসে।
বাংলাদেশের ইতিহাস
- প্রাচীন ইতিহাস: বঙ্গ, গৌড়, পাল, সেন বংশ – এই সময়ের ইতিহাস জানতে হবে।
- ব্রিটিশ শাসন: ব্রিটিশ শাসনের প্রেক্ষাপট, বিভিন্ন আন্দোলন, এবং এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে হবে।
- মুক্তিযুদ্ধ: মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, ঘটনা প্রবাহ, এবং ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি
- কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য: এই সেক্টরগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে হবে।
- অর্থনৈতিক পরিকল্পনা: পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং এসডিজি (SDG) সম্পর্কে জানতে হবে।
- বাজেট: জাতীয় বাজেট এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
বাংলাদেশের সংবিধান ও রাজনীতি
- সংবিধান: সংবিধানের মূলনীতি, সংশোধনী এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে জানতে হবে।
- রাজনৈতিক দল: প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে হবে।
- সরকার ব্যবস্থা: স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদ এবং বিচার বিভাগ সম্পর্কে জানতে হবে।
টিপস: নিয়মিত পত্রিকা পড়ুন এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউয়ের মতো সরকারি ডকুমেন্টস ফলো করুন।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী: গ্লোবাল ভিলেজে চোখ রাখুন
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে ২০ নম্বর। এই অংশে বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, চুক্তি, এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনা থেকে প্রশ্ন আসে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা
- জাতিসংঘ (UN), বিশ্ব ব্যাংক (World Bank), আইএমএফ (IMF): এদের গঠন, উদ্দেশ্য, এবং কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে হবে।
- আঞ্চলিক সংস্থা: সার্ক (SAARC), বিমসটেক (BIMSTEC), আসিয়ান (ASEAN), ওআইসি (OIC) – এদের সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
বিভিন্ন দেশ
- ভূগোল, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি: বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে।
- সীমান্ত, রাজধানী, মুদ্রা: বিভিন্ন দেশের সীমান্ত, রাজধানী ও মুদ্রা সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সম্মেলন
- জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা: এই সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি ও সম্মেলন সম্পর্কে জানতে হবে।
- সাম্প্রতিক ঘটনাবলী: বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে।
টিপস: নিয়মিত আন্তর্জাতিক পত্রিকা পড়ুন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ওয়েবসাইট ফলো করুন।
ভূগোল (ভূগোল ও পরিবেশ), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: প্রকৃতির পাঠ
ভূগোল ও পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে ১০ নম্বর আসবে।
ভূগোল
- নদী, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি: এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে।
- বাংলাদেশের ভূগোল: বাংলাদেশের অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, নদ-নদী, জলবায়ু সম্পর্কে জানতে হবে।
- বিশ্বের ভূগোল: পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভূগোল সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন: এই সমস্যাগুলো এবং এর কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে জানতে হবে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প – এই দুর্যোগগুলো কিভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তা জানতে হবে।
টিপস: ম্যাপ ব্যবহার করে পড়লে ভূগোল মনে রাখা সহজ হবে।
সাধারণ বিজ্ঞান: বিজ্ঞানের মজা
সাধারণ বিজ্ঞান থেকে ১৫ নম্বর আসবে। এখানে পদার্থ, রসায়ন ও জীববিদ্যা থেকে প্রশ্ন আসে।
পদার্থ বিজ্ঞান
- আলো, শব্দ, তাপ, বিদ্যুৎ: এই বিষয়গুলোর মূল ধারণা জানতে হবে।
- বল, গতি, কাজ, ক্ষমতা, শক্তি: এই বিষয়গুলো সম্পর্কেও জানতে হবে।
রসায়ন বিজ্ঞান
- পদার্থের গঠন, রাসায়নিক বিক্রিয়া, এসিড, ক্ষার: এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে।
- বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার: যেমন – সার, কীটনাশক, ঔষধ ইত্যাদি।
জীব বিজ্ঞান
- কোষ, টিস্যু, অঙ্গ, তন্ত্র: এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে।
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাস: এই সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
- রোগ ও স্বাস্থ্য: বিভিন্ন রোগ এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে।
টিপস: বিজ্ঞানের বেসিক বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। মুখস্থ না করে বুঝে পড়লে মনে রাখা সহজ হবে।
কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি: ডিজিটাল যুগের জ্ঞান
কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি থেকে ১৫ নম্বর আসবে।
কম্পিউটারের বেসিক বিষয়
- কম্পিউটারের ইতিহাস, গঠন, প্রকারভেদ: এই বিষয়গুলো জানতে হবে।
- ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস: এই সম্পর্কে জানতে হবে।
- অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার: এই বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য প্রযুক্তি
- ইন্টারনেট, ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া: এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে।
- ডাটাবেজ, নেটওয়ার্কিং, সাইবার নিরাপত্তা: এই বিষয়গুলো সম্পর্কেও জানতে হবে।
টিপস: কম্পিউটার ব্যবহারের বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে।
গাণিতিক যুক্তি: মাথা খাটিয়ে খেলুন
গাণিতিক যুক্তিতে ১৫ নম্বর থাকবে।
পাটিগণিত
- সংখ্যা, লসাগু, গসাগু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা: এই বিষয়গুলো জানতে হবে।
- লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, অনুপাত-সমানুপাত: এই বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
বীজগণিত
- উৎপাদক, বীজগণিতীয় সূত্রাবলী: এই বিষয়গুলো জানতে হবে।
- সরল সমীকরণ, দ্বিপদী উপপাদ্য: এই বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
জ্যামিতি
- রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত: এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে।
- ক্ষেত্রফল ও পরিমাপ: এই সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।
টিপস: বেশি বেশি অঙ্ক প্র্যাকটিস করুন।
মানসিক দক্ষতা: কতটা স্মার্ট আপনি?
মানসিক দক্ষতায় ১৫ নম্বর থাকবে।
- যুক্তি, সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ: এই বিষয়গুলোর উপর জোর দিতে হবে।
- বর্ণ ও সংখ্যা সিরিজ, সম্পর্ক নির্ণয়, কোডিং ও ডিকোডিং: এই বিষয়গুলো ভালোভাবে প্র্যাকটিস করতে হবে।
টিপস: বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করুন।
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন: ভালো মানুষ হওয়া
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন থেকে ১০ নম্বর আসবে।
- নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সুশাসন: এই বিষয়গুলোর সংজ্ঞা ও গুরুত্ব জানতে হবে।
- দুর্নীতি, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা: এই বিষয়গুলো সম্পর্কেও জানতে হবে।
টিপস: এই অংশে ভালো করার জন্য সাধারণ জ্ঞান ও যুক্তিবোধ কাজে লাগাতে হবে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- একটি রুটিন তৈরি করুন এবং সেটি মেনে চলুন।
- নিয়মিত পড়াশোনা করুন এবং রিভিশন দিন।
- বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করুন।
- মডেল টেস্ট দিন এবং নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করুন।
- শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন।
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ):
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য কোন বইগুলো পড়লে ভালো হয়?
বাজারে অনেক ভালো বই পাওয়া যায়। বাংলা ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই, ইংরেজির জন্য Wren and Martin, সাধারণ জ্ঞানের জন্য আজকের বিশ্ব বা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স-এর মতো বইগুলো দেখতে পারেন। এছাড়া, প্রতিটি বিষয়ের জন্য अलग-अलग গাইড বই পাওয়া যায়, যেগুলো আপনার প্রস্তুতিকে আরও গোছাতে সাহায্য করবে।
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং আছে কি? থাকলে, কিভাবে সামলাবো?
হ্যাঁ, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যায়। তাই খুব বেশি আন্দাজে উত্তর দেওয়া উচিত না। যেগুলো নিশ্চিতভাবে জানেন, প্রথমে সেগুলো দাগিয়ে নিন। তারপর সময় থাকলে ৫০-৫০ কনফিউশন থাকা প্রশ্নগুলো চেষ্টা করতে পারেন।
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস কিভাবে ডাউনলোড করবো?
আপনি সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইট (BPSC) থেকে অফিশিয়াল সিলেবাস ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া, আমাদের এই আর্টিকেলের শুরুতে একটি ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয়া আছে, যেখান থেকে খুব সহজেই সিলেবাসের পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য কত ঘণ্টা পড়াশোনা করা উচিত?
এটা আসলে আপনার প্রস্তুতি এবং মেধার উপর নির্ভর করে। তবে, একটা সাধারণ হিসাব হলো, প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করা উচিত। তবে শুধু পড়লেই হবে না, মনোযোগ দিয়ে এবং বুঝে পড়তে হবে।
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কোন বিষয়গুলোর উপর বেশি জোর দেওয়া উচিত?
সিলেবাসের প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, তবে কিছু বিষয় আছে যেগুলোতে বেশি জোর দেওয়া উচিত। যেমন – বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ, সাহিত্য, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংবিধান, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী এবং সাধারণ বিজ্ঞান। এছাড়া, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কেও আপডেট থাকতে হবে।
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আর কী কী করা যেতে পারে?
- নিয়মিত মক টেস্ট দিন।
- সময় ধরে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস করুন।
- নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করুন।
- পড়াশোনার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
- ইতিবাচক থাকুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষা দিন।
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা একটি কঠিন পরীক্ষা, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। শুভকামনা!