আজকাল ফিটনেস আর স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, তাই না? জিমে যাওয়া থেকে শুরু করে ডায়েট কন্ট্রোল, সবকিছুতেই আমরা খুব সিরিয়াস। কিন্তু অনেক সময় খাবারের মাধ্যমে সব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় না। তখনই দরকার পরে সাপ্লিমেন্টের। আচ্ছা, পরিপূরক কাকে বলে (Poripurak Kake Bole)? এটা আসলে কী, আর কেনই বা এটা এত গুরুত্বপূর্ণ, সেই নিয়েই আজকের আলোচনা। চলেন, জেনে নেই!
পরিপূরক (Supplement) কী?
পরিপূরক বা সাপ্লিমেন্ট হলো সেই জিনিস, যা আমাদের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি বাড়তি পুষ্টি যোগায়। সহজ ভাষায়, ধরুন আপনি প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি পাচ্ছেন, কিন্তু আপনার শরীর আরও বেশি ভিটামিন সি চাইছে। তখন আপনি ভিটামিন সি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল খাচ্ছেন। এটাই হলো সাপ্লিমেন্ট।
পরিপূরক বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়, যেমন: ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, পাউডার, পানীয় ইত্যাদি। এগুলোতে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভেষজ উপাদান, বা অন্যান্য এনজাইম থাকতে পারে।
পরিপূরকের প্রয়োজনীয়তা
আচ্ছা, এখন প্রশ্ন হলো, পরিপূরকের দরকার কেন? আমরা তো খাবার খাচ্ছি, তাই না? হ্যাঁ, খাচ্ছি। কিন্তু সব সময় সব খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় না। কিছু কারণ আলোচনা করা যাক:
-
অপুষ্টি: অনেকেই আছেন, যারা ঠিকমতো খাবার পান না বা সবসময় পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন না। তাদের জন্য সাপ্লিমেন্ট খুব দরকারি।
-
শারীরিক চাহিদা: গর্ভাবস্থায় বা অসুস্থ থাকলে শরীরে কিছু পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন সাপ্লিমেন্ট সেই চাহিদা পূরণ করতে পারে।
-
জীবনযাত্রা: যারা খুব বেশি ব্যায়াম করেন বা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের শরীরে বেশি পুষ্টি দরকার হয়। সাপ্লিমেন্ট তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
- খাবারের গুণাগুণ: এখনকার দিনে অনেক খাবারে ভেজাল মেশানো থাকে, ফলে খাবারের গুণাগুণ কমে যায়। তাই সাপ্লিমেন্ট দরকার হতে পারে।
পরিপূরকের প্রকারভেদ (Types of Supplements)
বাজারে বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। এদের মধ্যে কিছু প্রধান সাপ্লিমেন্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো:
ভিটামিন (Vitamins)
ভিটামিন আমাদের শরীরের জন্য খুবই দরকারি। ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই, কে – এই সবগুলোই আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজে লাগে।
- ভিটামিন এ চোখের জন্য ভালো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- ভিটামিন বি স্নায়ু এবং হজমের জন্য দরকারি।
- ভিটামিন সি ত্বক, হাড় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য খুব দরকারি।
- ভিটামিন ডি হাড় মজবুত করে এবং ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়ায়।
- ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং কোষকে রক্ষা করে।
মিনারেল (Minerals)
ভিটামিনের মতো মিনারেলও আমাদের শরীরের জন্য খুব জরুরি। ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম – এগুলো সবই মিনারেলের উদাহরণ।
- ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করে।
- আয়রন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।
- জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- ম্যাগনেসিয়াম মাংসপেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা ঠিক রাখে।
অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino Acids)
অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোটিনের বিল্ডিং ব্লক। এটি মাংসপেশি তৈরি এবং শরীরের অন্যান্য কার্যক্রমে সাহায্য করে।
- বিসিএএ (BCAA): মাংসপেশি পুনরুদ্ধার এবং বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- গ্লুটামিন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমে সাহায্য করে।
ভেষজ পরিপূরক (Herbal Supplements)
বিভিন্ন গাছপালা ও প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি সাপ্লিমেন্ট হলো ভেষজ পরিপূরক।
- তুলসী: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ঠান্ডা-কাশির উপশম করে।
- আদা: হজমে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়।
- অশ্বগন্ধা: স্ট্রেস কমায় এবং শক্তি বাড়ায়।
অন্যান্য পরিপূরক (Other Supplements)
এছাড়াও বাজারে আরও অনেক ধরনের সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়, যেমন:
- ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড: হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।
- প্রোবায়োটিক: হজম ঠিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- ক্রিয়েটিন: শক্তি বাড়ায় এবং মাংসপেশি গঠনে সাহায্য করে।
পরিপূরক ব্যবহারের নিয়মাবলী
সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করার আগে কিছু জিনিস মনে রাখা দরকার। কারণ ভুলভাবে সাপ্লিমেন্ট নিলে উপকার তো হবেই না, উল্টো ক্ষতি হতে পারে।
ডাক্তারের পরামর্শ (Doctor’s Advice)
সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আপনার শরীরের অবস্থা, বয়স এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তার আপনাকে সঠিক সাপ্লিমেন্ট বেছে নিতে সাহায্য করবে।
সঠিক ডোজ (Proper Dosage)
সাপ্লিমেন্টের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে, দিনে কতটুকু খেতে হবে। সেই অনুযায়ী ডোজ মেনে চলুন। বেশি খেলে ক্ষতি হতে পারে।
খাবারের সাথে গ্রহণ (Intake with Meal)
কিছু সাপ্লিমেন্ট খাবারের সাথে খেতে হয়, আবার কিছু খালি পেটে। ডাক্তার বা প্যাকেজের নির্দেশনা দেখে সেই অনুযায়ী খান।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects)
সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পর যদি কোনো সমস্যা হয়, যেমন: বমি, মাথা ব্যথা, বা অ্যালার্জি, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
পরিপূরক ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা
সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের কিছু ভালো দিক আছে, আবার কিছু খারাপ দিকও আছে। সেগুলো আলোচনা করা যাক:
সুবিধা (Advantages)
- শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
- কিছু রোগের ঝুঁকি কমায়।
অসুবিধা (Disadvantages)
- বেশি খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
- কিছু সাপ্লিমেন্ট ওষুধের সাথে মিশে খারাপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
- সব সাপ্লিমেন্ট সবার জন্য উপযুক্ত নয়।
- কিছু সাপ্লিমেন্ট বেশ দামি হতে পারে।
পরিপূরক নিয়ে কিছু ভুল ধারণা (Myths about Supplements)
সাপ্লিমেন্ট নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। সেগুলো একটু ভেঙ্গে দেওয়া যাক।
সাপ্লিমেন্ট খেলেই সব রোগ সেরে যায়
এটা একদম ভুল ধারণা। সাপ্লিমেন্ট কোনো ওষুধ নয়। এটা শুধু শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সাপ্লিমেন্ট খেলে আর ভালো খাবারের দরকার নেই
এটাও ভুল। সাপ্লিমেন্ট খাবারের বিকল্প নয়। ভালো খাবার খাওয়া শরীরের জন্য খুবই জরুরি। সাপ্লিমেন্ট শুধু খাবারের পাশাপাশি বাড়তি পুষ্টি যোগায়।
সব সাপ্লিমেন্টই নিরাপদ
সব সাপ্লিমেন্ট নিরাপদ নয়। কিছু সাপ্লিমেন্টে ভেজাল থাকতে পারে বা শরীরের জন্য ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। তাই কেনার আগে ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
কোন বয়সের মানুষের জন্য কোন পরিপূরক প্রয়োজন?
বয়সভেদে আমাদের শরীরের চাহিদা বদলায়, তাই পরিপূরকের প্রয়োজনও ভিন্ন হয়। চলুন, দেখে নেওয়া যাক কোন বয়সের মানুষের জন্য কোন পরিপূরক জরুরি:
শিশু ও কিশোর (Children and Adolescents)
- ভিটামিন ডি: হাড়ের সঠিক বিকাশের জন্য জরুরি।
- ক্যালসিয়াম: দাঁত ও হাড় মজবুত করে।
- ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড: মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে।
তরুণ ও যুবক (Young Adults)
- মাল্টিভিটামিন: শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা মেটায়।
- বি ভিটামিন: এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।
- প্রোটিন পাউডার: ব্যায়ামের পর মাংসপেশি পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি।
মধ্যবয়সী (Middle-Aged Adults)
- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি: হাড়ক্ষয় প্রতিরোধ করে।
- ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড: হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- কোএনজাইম কিউ ১০ (CoQ10): হৃদরোগ ও মস্তিষ্কের সুরক্ষায় কাজ করে।
বয়স্ক (Elderly)
- ভিটামিন বি১২: স্নায়ুর কার্যকারিতা ঠিক রাখে।
- ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম: হাড় মজবুত রাখে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
- প্রোবায়োটিক: হজমক্ষমতা বাড়ায়।
পরিপূরক কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত
সাপ্লিমেন্ট কেনার সময় কিছু জিনিস অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যাতে আপনি সঠিক জিনিসটা কিনতে পারেন।
ব্র্যান্ড (Brand)
ভালো ব্র্যান্ডের সাপ্লিমেন্ট কেনা উচিত। কারণ নামী ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত গুণগত মান বজায় রাখে।
উপাদান (Ingredients)
সাপ্লিমেন্টের উপাদানগুলো ভালোভাবে দেখে নিন। ক্ষতিকর কোনো উপাদান থাকলে সেটা পরিহার করুন।
মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ (Expiry Date)
সাপ্লিমেন্টের প্যাকেটে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া থাকে। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেই সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা উচিত নয়।
সার্টিফিকেশন (Certification)
কিছু সাপ্লিমেন্টের গায়ে বিশেষ মার্কা বা চিহ্ন থাকে, যা প্রমাণ করে যে এটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত এবং নিরাপদ। কেনার সময় এই সার্টিফিকেশন দেখে নিন।
বাংলাদেশে জনপ্রিয় কিছু পরিপূরক
বাংলাদেশের বাজারে অনেক ধরনের সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। এদের মধ্যে কিছু জনপ্রিয় সাপ্লিমেন্ট হলো:
মাল্টিভিটামিন
মাল্টিভিটামিন শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। Cenovis, বেক্সিমকো, স্কয়ার কোম্পানির মাল্টিভিটামিন বেশ জনপ্রিয়।
ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি হাড় মজবুত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। D-Rise, Bon-D ইত্যাদি ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট বেশ পরিচিত।
ক্যালসিয়াম
ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের জন্য খুবই দরকারি। Calbo, Os ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট হিসেবে বহুল ব্যবহৃত।
ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড খুব দরকারি। Epimax, স্কয়ার কোম্পানির ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড বেশ জনপ্রিয়।
পরিপূরক নিয়ে কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
সাপ্লিমেন্ট নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
পরিপূরক কি খাবারের বিকল্প?
- না, পরিপূরক খাবারের বিকল্প নয়। এটা শুধু খাবারের পাশাপাশি বাড়তি পুষ্টি যোগায়।
পরিপূরক কি সবার জন্য নিরাপদ?
- সব পরিপূরক সবার জন্য নিরাপদ নয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা উচিত।
পরিপূরক কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?
- কিছু পরিপূরক ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে শুধু সাপ্লিমেন্ট খেয়ে ওজন কমানো সম্ভব নয়। এর সাথে সঠিক ডায়েট ও ব্যায়াম করা জরুরি।
গর্ভাবস্থায় পরিপূরক গ্রহণ করা কি নিরাপদ?
- গর্ভাবস্থায় পরিপূরক গ্রহণ করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কিছু সাপ্লিমেন্ট গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
শিশুদের জন্য কোন পরিপূরক নিরাপদ?
- শিশুদের জন্য ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড নিরাপদ। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো সাপ্লিমেন্ট দেওয়া উচিত নয়।
পরিপূরক এবং ভেজাল: চেনার উপায়
বাজারে ভেজাল সাপ্লিমেন্টের ছড়াছড়ি। আসল সাপ্লিমেন্ট চেনাটা খুব জরুরি। কিছু টিপস দেওয়া হলো:
যাচাই করুন (Check Authenticity)
- সাপ্লিমেন্টের প্যাকেজের হলোগ্রাম এবং সিরিয়াল নম্বর ভালোভাবে যাচাই করুন।
- প্রস্তুতকারক কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে তথ্য মিলিয়ে নিন।
কম দামের পণ্য এড়িয়ে চলুন (Avoid Very Cheap Products)
- অতিরিক্ত কম দামের সাপ্লিমেন্ট কেনা থেকে বিরত থাকুন। ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
পরিচিত জায়গা থেকে কিনুন (Buy from Reputable Sources)
- নির্ভরযোগ্য ফার্মেসি বা দোকান থেকে সাপ্লিমেন্ট কিনুন।
উপাদান তালিকা দেখুন (Check Ingredients List)
- উপাদান তালিকায় ক্ষতিকর কিছু দেখলে সেই সাপ্লিমেন্ট পরিহার করুন।
পরিপূরক ব্যবহারের সতর্কতা
সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করবেন না।
- সঠিক ডোজ মেনে চলুন।
- কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন।
- শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
পরিপূরক: আধুনিক জীবনে এর প্রভাব
আধুনিক জীবনে সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। তাই সাপ্লিমেন্ট তাদের জন্য একটি সহজ সমাধান। তবে সাপ্লিমেন্টের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যায়াম করাও জরুরি।
পরিপূরক নিয়ে আমার কিছু কথা
আমি মনে করি, সাপ্লিমেন্ট আমাদের শরীরের জন্য খুব দরকারি হতে পারে, যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে, সঠিক সাপ্লিমেন্ট বেছে নিয়ে, আমরা আমাদের স্বাস্থ্যকে আরও ভালো রাখতে পারি। তবে এটা মনে রাখতে হবে, সাপ্লিমেন্ট কোনো জাদু নয়। এটা শুধু আমাদের শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং ভালো থাকতে সাহায্য করে।
পরিপূরক কাকে বলে (Poripurak Kake Bole), সেটা নিয়ে এতক্ষণ অনেক আলোচনা হলো। আশা করি, আপনারা সবাই বুঝতে পেরেছেন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন! আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক অন্য কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে, অবশ্যই কমেন্ট করে জানান।