জাদুঘরে কেন যাব প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

আজকে জাদুঘরে কেন যাব প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরব। আশা করি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের খুব উপকার হবে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক, জাদুঘরে কেন যাব প্রবন্ধের ২টি গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী সৃজনশীল ও উত্তর।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর-১:

প্রবাসী বাঙালি বাবা-মার একমাত্র সন্তান নোভা এবার প্রথম বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশকে সে চিনতে চায়, জানতে চায়। তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় যে এ দেশের সব জাদুঘর ঘুরে দেখবে। সে মনে করে একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আধার হচ্ছে জাদুঘর।

ক. দ্বিজাতি তত্ত্বের উদ্যোক্তা কে?

খ. ‘জাদু’ শব্দটি দু ধরনের দ্যোতনা প্রকাশ করে। উদাহরণসহ আলোচনা করো।

গ. উদ্দীপকটি ‘জাদুঘরে কেন যাব’— প্রবন্ধের কোন দিকটি নির্দেশ করে? আলোচনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের ‘একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আধার হচ্ছে জাদুঘর’ – উক্তিটি ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

 ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. দ্বিজাতি তত্ত্বের উদ্যোক্তা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ।

খ. ‘জাদু’ শব্দটি দ্বারা একদিকে বোঝায় ‘কুহক’ ‘ভেলকি’ ‘ইন্দ্ৰজাল’; অন্যদিকে বোঝায় চমৎকার, মনোহর ও কৌতূলদ্দীপক।

‘আমার মেয়েটিকে বোকাসোকা পেয়ে ছেলেটি জাদু করেছে’— এই বাক্যে ‘জাদু” শব্দটির একটি দ্যোতনা প্রকাশিত হয়েছে। যার অর্থ ছেলেটি— মেয়েটির ওপর কোনো ভেলকি প্রয়োগ করেছে বা ইন্দ্রজাল বিছিয়েছে। এটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে ‘তোমার কণ্ঠে জাদু আছে।’ এই বাক্যে ‘জাদু’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে ইতিবাচক অর্থে। যা দ্বারা মূলত বোঝানো হয়েছে চমৎকার বা খুব মোহনীয়।

গ. জাদুঘর একটি দেশের সমগ্র ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির ধারক—– উদ্দীপকটি প্রবন্ধের এই দিককে নির্দেশ করে।

‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধে জাদুঘরের উৎপত্তি, বিকাশ লাভ এবং জাতির প্রতিনিধিত্বকরণে এর ভূমিকার নানা বিষয় ফুটে উঠেছে। মানবজাতির আত্মপরিচয় তুলে ধরতে জাদুঘরের বিকল্প নেই। জাদুঘরে সংগৃহীত নিদর্শনগুলো বিবরণসহ এমন আকর্ষণীয় ভাবে প্রদর্শন করা হয়, যার মাধ্যমে যে কেউ একটি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ে পূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারে।

Read More:  'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ( ১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

উদ্দীপকের নোভা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী। সে বাংলাদেশে এসে সব জাদুঘর ঘুরে দেখতে চায়। তার মতে, যেহেতু সে প্রথমবারের মতো দেশে এসেছে, জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখতে পারলে সে দেশের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করতে পারবে। কারণ জাদুঘরে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত যত পরিবর্তন, পরিবর্ধন এই দেশে হয়েছে, সব কিছুর বর্ণনা দেওয়া আছে। দেশের ইতিহাস আর সংস্কৃতি সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করা সম্ভব জাদুঘরের মাধ্যমে। তাই সে দেশে এসে সব জাদুঘর ঘুরে দেখতে চায় । নোভা যেসব উদ্দেশ্য নিয়ে জাদুঘরে আসতে চায়, প্রবন্ধেও জাদুঘরের এমন উদ্দেশ্যের কথাই নির্দেশ করা হয়েছে।

ঘ. ‘জাদুঘর’ একটি জাতির তথা দেশের সমগ্র বিষয়াদির প্রতিনিধিত্ব করে বিধায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

জাদুঘর একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান। এখানে মানবসভ্যতা ও ইতিহাসের নানা নিদর্শন সংরক্ষণ করা হয়। এখানে এসে দর্শনার্থীরা এসব বিষয়ে ধারণা লাভ করতে পারে। সবমিলিয়ে মানব জাতির আত্মপরিচয় তুলে ধরায় নানা ধরনের জাদুঘর, যেমন– বিজ্ঞান জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর, উদ্ভিদ উদ্যান ও জাদুঘর প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদ্দীপকে প্রবন্ধের মতো বিস্তারিত ভাবে জাদুঘরের নানা দিক বর্ণনা না করা হলেও এখানে জাদুঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসা নোভার কথা উদ্দীপকে বলা হয়েছে। সে স্থির করে, বাংলাদেশের সবগুলো জাদুঘর ঘুরে দেখবে। জাদুঘরে গেলেই সে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসহ সবকিছু জানতে পারবে। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব, মুক্তিযুদ্ধ সামরিক বিভিন্ন বিষয়, উদ্ভিদসমূহ সবকিছুর জন্য গড়ে ওঠেছে নানা রকম জাদুঘর। সেখানে গেলে নোভা দেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবে বলে সে মনে করে।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে নোভা জাদুঘর সম্পর্কে যে উক্তিটি করেছে, তা প্রবন্ধে বর্ণিত জাদুঘরের ধারণারই বহিঃপ্রকাশ। এই উক্তির মাধ্যমে জাদুঘরের গুরুত্ব এবং দেশকে চিনতে এর ভূমিকার কথাই ফুটে উঠেছে। প্রবন্ধে নানা বিষয়ের বর্ণনার মাধ্যমেও এই ব্যাপারটিই প্রকাশিত হয়েছে। একটি দেশের সবকিছুর নিদর্শন জাদুঘরে বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। প্রবন্ধে নানা দেশের নানা রকম জাদুঘর কীভাবে সেসব দেশ সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেয়, সেটি বলা হয়েছে। ঠিক তেমনি নোভার উক্তি দিয়ে বাংলাদেশের জাদুঘরগুলো কীভাবে তাকে দেশ সম্পর্কে ধারণা দিবে সেটা প্রতীয়মান হয়েছে।

Read More:  ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (১০০% গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী)

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর-২:

গ্রীষ্মের ছুটিতে ইমা তার মামার সাথে দেশের বিভিন্ন জাদুঘরে ঘুরতে গেল। জাতীয় জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর। বিভিন্ন জাদুঘর ঘুরে ঘুরে তার বিস্ময়ের সীমা রইল না। সে এখন দেশ ও দেশের ঐতিহ্য জানতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছে।

ক. মানুষ টাওয়ার অব লন্ডনে কী দেখতে যায়?

খ. মোনায়েম খান সেদিন রাগ করেছিলেন কেন?

গ. উদ্দীপকে ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? আলোচনা করো।

ঘ. ঐতিহ্যকে লালন ও চর্চার মধ্য দিয়েই দেশ ও জাতিকে চেনা যায়— উদ্দীপক ও ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. মানুষ টাওয়ার অব লন্ডনে কোহিনুর দেখতে যায়।

খ. ‘মিউজিয়াম’ শব্দের স্থলে ‘জাদুঘর’ শব্দটি মোনায়েম খানের মনঃপুত না হওয়ায় তিনি সেদিন রাগ করেছিলেন।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খান ঢাকার জাদুঘরে গিয়েছিলেন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে। সেখানে তুসরা হরফে লেখা নুসরাত শাহের আশরাফপুর শিলালিপি; যা মূলত ষোলো শতকে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার বৃত্তান্ত সংবলিত প্রস্তরখণ্ড দেখে তাকে আল্লাহর কালাম ভেবেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যেখানে আল্লাহ্র কালাম থাকে তা জাদুঘর হতে পারে না। সে জন্য ‘জাদুঘর’ শব্দটিতে তাঁর আপত্তি ছিল। তাছাড়া দ্বিজাতি তত্ত্বে বিশ্বাসী মোনায়েম খান চাননি বাংলায় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে জাদুঘরকে ‘জাদুঘর’ বলুক। মুসলিম ঐতিহ্যের নিদর্শন আছে এমন জায়গাকে হিন্দুদের চেয়ে মুসলিমরা ভিন্ন কোনো নামে ডাকুক তাই তিনি চেয়েছিলেন। এসবই তাঁর রাগ করার কারণ ছিল।

গ. উদ্দীপকে ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধের জাদুঘরের বৈচিত্র্যের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

জাদুঘর আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের জ্ঞানদান করে। আমাদের আত্মপরিচয়ের স্বরূপ জানায়, চেতনা জাগ্রত করে আমাদের মনোজগতকে সমৃদ্ধ করে। একেক ধরনের জাদুঘর একেক বিষয় ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। উদ্দীপকে ইমা বাংলাদেশের বিভিন্ন জাদুঘর দেখে বিস্মিত হয়েছে। সেখানে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা তাকে মোহিত করছে। এ অনন্য স্থাপনার সম্পর্কে জানতে পেরে গর্ববোধ করেছে। আলোচ্য প্রবন্ধেও বিভিন্ন ধরনের জাদুঘরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মিউজিয়ামে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক সংগ্রহশালার সঙ্গে রয়েছে বিশাল গ্রন্থাগার।

Read More:  নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

জাদুঘরের এই বিষয়গত ও গঠনগত বৈচিত্র্য উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়। সুতরাং বলা যায় ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধের জাদুঘরের বৈচিত্র্যের দিকটিই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. জাদুঘরে রক্ষিত নানা উপাদান মূলত জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, রুচি ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। এসব বস্তু জাতীয় চেতনাবোধ জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাদুঘর পুরোনো দিনের সাথে বর্তমান সমাজের একটা যোগসূত্র তৈরি করে।

উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কথা বলা হয়েছে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধে রক্তঝরা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অনন্য নিদর্শনসমূহ রক্ষিত আছে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধেও এই বিষয়টি লক্ষিত হয়।

আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক ঐতিহাসিক বস্তুসমূহের সংগ্রহশালা হিসেবে বিশ্বের বিখ্যাত অনেক জাদুঘরের প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন। জাদুঘরে রক্ষিত নানা ঐতিহাসিক নিদর্শনের মাধ্যমে আমরা আমাদের অতীতকে ভালোভাবে জানতে পারি। আমাদের দেশকে ভালোবাসার প্রেরণা পাই জাদুঘরে সংরক্ষিত স্থাপনা দেখে।

জাদুঘর হচ্ছে এমন এক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান সেখানে মানব সভ্যতা, সংস্কৃতির বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহ করে রাখা হয় সংরক্ষণ, প্রদর্শন, গবেষণার জন্য। এভাবে জাদুঘর একটি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

আশা করি, আজকের আর্টিকেল ‘জাদুঘরে কেন যাব প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর’ আপনার ভালো লেগেছে।

Mushfiqur Rahman Swopnil

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *