রচনাঃ জনসেবা

আজকের পোস্টে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা শেয়ার করব “জনসেবা“। এই রচনাটি আশা করি তোমাদের পরীক্ষায় কমন আসবে। আমরা এই রচনাটি যত সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করেছি – তোমাদের পড়তে সুবিধা হবে। চলো শুরু করা যাক।

জনসেবা

ভূমিকা : নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের সেবায় আত্মনিয়োগ করার নামই জনসেবা। জনসেবার মধ্যেই মনুষ্যত্ব নিহিত। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে সে একা বাস করতে পারে না। অন্যের সাহায্য নিয়ে মানবজীবন পরিচালিত হয় বলে অন্যের সেবা করার আগ্রহ জাগে। পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে মানুষ বৃহৎ মানব সমাজ গড়ে তোলে।

জনসেবা : সৃষ্টির প্রথমে মানুষ ছিল অসহায়। বন্য জন্তুর ভয়ে সব সময় তাদের ভীত হয়ে থাকতে হতো। ঘরবাড়ি তৈরির কলাকৌশল তাদের জ্ঞাত ছিল না। তারা পর্বতের গুহায় কিংবা গাছের শাখায় বাস করত। এক সময় সমাজ গড়ে তুলে মানুষ সমস্ত জীবজগতের ওপর নিজেদের আধিপত্য স্থাপন করল এবং ধীরে ধীরে তারা গোটা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক হয়ে বসল। তাই তারা সমাজকে সুদৃঢ় ও সুশৃঙ্খল করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করতে লাগল। অনেক মহাপুরুষ পৃথিবীতে জন্ম নিলেন এবং তাঁরা অবুঝ মানুষকে তাদের কাজ ও আচরণ সম্পর্কে নানাভাবে শিক্ষা দিলেন। তাঁরা বললেন, মানুষে মানুষে ভাই ভাই। তারা পরস্পর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। কারণ, কোনো মানুষই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কাজেই একের প্রয়োজনে অন্যকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। দুঃখ-দুর্দশা, জরা-ব্যাধি মানুষের নিত্য-নহচর। এগুলো এড়ানোর ক্ষমতা কারও নেই। তবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সেবার মাধ্যমে এসব দুরবস্থা দারিয়ে রাখা যায়। এভাবেই মানুষের মধ্যে সেবার মানসিকতা জন্মলাভ করে। জনসেবার সূত্রপাত ঘটে সমাজে ।

শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের কর্তব্য : মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব বিধায় মানুষের সেবা ও মঙ্গল সাধন করা তার বড় কাজ। তাই অন্যকে সহযোগিতা করেই মানুষ আত্মতৃপ্তি লাভ করে। মনুষ্য জীবনের সমস্ত ব্রতের মধ্যে জনসেবার ব্রতই শ্রেষ্ঠ। নিজের ক্ষুদ্র জীবনকে যদি মানুষের সেবায় নিয়োজিত করা যায় তবেই জীবনের চরম সার্থকতা আসে। তাই কবি বলেছেল-

Read More:  ভাবসম্প্রসারণঃ উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে

‘সকলের তরে সকলে আমরা

প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’

জনসেবা পরম ধর্ম : পৃথিবীর সব ধর্মেই জনসেবার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মের প্রত্যেক কথায় ও কাজে জনসেবার আদর্শ রয়েছে। স্রষ্টাকে পাওয়ার শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে তার সৃষ্ট জীবকে সেবার মাধ্যমে ভালোবাসা। মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করা সহজতর হয়। হিন্দু ধর্মে বলা আছে, “জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর”। ধনী- পরিব, দুঃস্থ-নিঃস্ব, শত্রু-মিত্র সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করাই জনসেবার আদর্শ। এভাবেই মানুষ সহজে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। কাজেই সেবা ধর্ম হচ্ছে ধর্মের সারবস্তু।

বিদ্যালয়ে সেবাকার্য : শৈশব থেকেই জনসেবার বীজ মনের মধ্যে বপন করতে হয়। জনসেবার শিক্ষাই মানুষকে মহান ও আত্মত্যাগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। বিদ্যালয়ের কিশোর ছাত্ররা এর চর্চা করলে ভবিষ্যৎ জীবনেও তা তাদের অপরিহার্য কাজ বলে গণ্য হয়ে থাকে। শুধু বইয়ের পাতা একটার পর একটা মুখস্ত করে কেউ প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। এর জন্য তাদেরকে লেখাপড়ার সাথে সাথে সমাজসেবামূলক কাজও শিখতে হবে। বিদ্যালয়ের সেবাব্রতী দল বয়স্কাউট গঠন করে ফার্স্ট এইড ট্রেনিং অর্থাৎ প্রাথমিক সাহায্য শিক্ষাদান করলে দেশ ও জাতির কল্যাণে আসে।

জনসেবা মহামানবদের সত্যাদর্শ : জগতের মহামানবগণ তাঁদের কথায় ও কাজে প্রচার করে গেছেন- জনসেবাই সমাজসেবা। তাঁরা ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, গরিব-দুঃখী সবাইকে ভাই বলে আলিঙ্গন করেছেন। মানুষের বৃহত্তম স্বার্থের জন্য তাঁরা সবকিছু বিসর্জন দিতেন। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (দ) বলেছেন, “মানুষের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ যিনি মানুষের সেবায় নিজকে নিয়োজিত করেন”। হযরত ঈসা (আ) ক্রুশবিদ্ধ হয়েও মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বিভ্রান্ত মানুষকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করছেন। মহামানব বুদ্ধ মানুষের মুক্তির জন্য রাজসিংহাসন, রাজসুখ, ঐশ্বর্য, স্ত্রী-পুত্র সবকিছু ত্যাগ করে পথে বের হয়েছিলেন। তাঁদের মহাদর্শ জনসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ।

জনসেবার উপায় : মানুষ নানাভাবে জনসেবা করতে পারে। অর্থ দিয়ে, প্রেম দিয়ে, শ্রম দিয়ে মানবসেবার আদর্শ স্থাপন করা যায়। মানুষ যদি মানব কল্যাণে অর্থ ব্যয় না করে অসৎ পথে বিলিয়ে দেয়, তবে সেই অর্থ মানুষকে মহিমা না দিয়ে মানি দেয় । অগণিত জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও জনসেবার লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে।

Read More:  রচনাঃ একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ

উপসংহার: দুঃখীর দুঃখ মোচন করা ইবাদতের সামিল। আমাদের প্রত্যেকের উচিত জনসেবার মাধ্যমে মানুষের দুঃখ দূর করা এবং সেই সঙ্গে নিজেদের জীবনকে সফলতায় ভরিয়ে তোলা। কারণ জনসেবার মধ্যেই সবার সাফল্য নিহিত। তবে জনসেবার নামে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বাড়ায়, তাদের সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে রচনা যেটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই রচনা নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।

Fahim Raihan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *