ভাবসম্প্রসারণঃ অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাই শ্রেয়

আজকের পোস্টে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাবসম্প্রসারণ শেয়ার করব “ অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাই শ্রেয়“। এই ভাবসম্প্রসারণটি আশা করি তোমাদের পরীক্ষায় কমন আসবে। আমরা এইভাবসম্প্রসারণটি যত সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করেছি – তোমাদের পড়তে সুবিধা হবে। চলো শুরু করা যাক।

অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাই শ্রেয়

মূলভাব: কর্মেই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। সম্প্রসারিত ভাব : পৃথিবীতে একশ্রেণির মানুষ রয়েছে যারা কাজের চেয়ে ভাবনাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা অন্যের চেয়ে নিজেকে বেশি যোগ্য বলে মনে করে এবং অন্যের কাজের নেতিবাচক সমালোচনা করতে পছন্দ করে। এ শ্রেণির মানুষ সমাজের জন্যে কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। মিথ্যা আত্মপ্রচার আর অসম্ভব সব পরিকল্পনা নিয়ে তারা আত্মপ্রসাদ পেয়ে থাকে। এদের সমস্ত ভাবনা ও পরিকল্পনাই ভবিষ্যতের জন্যে গচ্ছিত থাকে; কোনো সময়ই তা বাস্তবে রূপ নেয় না। একসময় তাদের অন্তঃসারশূন্য জীবনের অবসান হয়। পক্ষান্তরে, যিনি কাজের মানুষ, তিনি কর্মকেই ধ্যান-জ্ঞান করেন। এ শ্রেণির মানুষ আত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাশীল হয়ে থাকেন । তাঁরা কখনোই অর্থহীন বাগাড়ম্বর করে কিংবা কপট ভাবুক বা জ্ঞানী সেজে নিজেকে ক্ষুদ্র করেন না। বরং কর্ম যত ছোটই হোক, তা নিষ্পন্ন করার মধ্যেই তারা আত্মতৃপ্তি খুঁজে পান। আর এ কথা সত্য যে, মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজের সমষ্টিই একসময় মানবসমাজের বৃহৎ কল্যাণসাধন করে। সুতরাং, এ শ্রেণির মানুষ সমাজ ও সভ্যতার সম্পদ। এ কারণে এঁরা সমাজ কর্তৃক সমাদৃত ও সম্মানিত হন। মন্তব্য : অর্থহীন ভাবনা মানুষের কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, তা সময়ের অপচয় করে মাত্র। অন্যদিকে পরিমাণে অল্প যে কোনো কাজ মানবজীবনের প্রবাহকে সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে । সুতরাং আমাদেরকে ভাবুক হবার পথ পরিহার করে কর্মী হবার সাধনা করতে হবে।
Read More:  রচনাঃ দারিদ্র্য বিমোচন
সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে ভাব সম্প্রসারণ যেটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই ভাব সম্প্রসারণ নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।
Fahim Raihan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *