ভাবসম্প্রসারণঃ অর্থ-সম্পদের বিনাশ আছে, কিন্তু জ্ঞান-সম্পদ কখনো বিনষ্ট হয় না

আজকের পোস্টে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাবসম্প্রসারণ শেয়ার করব “ অর্থ-সম্পদের বিনাশ আছে, কিন্তু জ্ঞান-সম্পদ কখনো বিনষ্ট হয় না“। এই ভাবসম্প্রসারণটি আশা করি তোমাদের পরীক্ষায় কমন আসবে। আমরা এইভাবসম্প্রসারণটি যত সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করেছি – তোমাদের পড়তে সুবিধা হবে। চলো শুরু করা যাক।

অর্থ-সম্পদের বিনাশ আছে, কিন্তু জ্ঞান-সম্পদ কখনো বিনষ্ট হয় না

মূলভাব: জ্ঞান মানুষকে মনুষ্যত্ব দান করে। জ্ঞান-অর্জনের প্রক্রিয়ায় মানুষ প্রকৃত মানুষের গুণাবলি অর্জন করে । সম্প্রসারিত ভাব : জ্ঞান অবিনাশী বলে একবার তা অর্জন করলে সারা জীবনের সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়।জ্ঞান মানুষের সুষ্ঠ মানসিক বিকাশের নিয়ামকশক্তি। এ শক্তি মানুষের মাঝে বিবেকের উন্মেষ ঘটায়, জাগ্রত  করে ন্যায়-নীতি, সত্য ও সুন্দরের মহিমা। সাধারণত মনুষ্যসমাজে যারা জ্ঞানী, তারাই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত, মনুষ্যসমাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে সম্মানিত। জ্ঞান হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এ সম্পদের ক্ষয় নেই। জ্ঞান উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে। এ সম্পদ কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে না। মানুষ অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের পেছনে ছুটে চলে। কিন্তু জ্ঞান-সম্পদের মতো মানুষের অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ চিরস্থায়ী নয়, যে কোনো সময় ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। পৃথিবীর ইতিহাসে এর নজির বিরল নয় । আজকে রাজা, কালকে ফকির— এ রকম দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে। কিন্তু যিনি জ্ঞানী তিনি আমৃত্যু জ্ঞানরূপ সম্পদে সম্পদশালী। তার ক্ষয় নেই। এমনকি মৃত্যুর পরেও জ্ঞানীর জ্ঞানের প্রাচুর্য পৃথিবীতে বিরাজ করে জ্ঞানীদের অমরত্ব দান করে। তাই এ সত্যই প্রতিষ্ঠিত যে, অর্থ-সম্পদের বিনাশ আছে, কিন্তু জ্ঞান-সম্পদ কখনো বিনষ্ট হয় না। জ্ঞান অতুলনীয় সম্পদ। মন্তব্য : মানুষ তার স্বরূপকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করতে পারে শুধু জ্ঞান আহরণের মধ্য দিয়েই। জাগ্রত করতে পারে নিজের ক্ষমতাকে, সেবাদান করতে পারে বিশ্বমানবতাকে। তাই সব মানুষেরই উচিত জ্ঞান আহরণ করা। সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি আমাদের এই পোস্ট থেকে ভাব সম্প্রসারণ যেটি তুমি চাচ্ছিলে সেটি পেয়ে গিয়েছ। যদি তুমি আমাদেরকে কোন কিছু জানতে চাও বা এই ভাব সম্প্রসারণ নিয়ে যদি তোমার কোনো মতামত থাকে, তাহলে সেটি আমাদের কমেন্টে জানাতে পারো। আজকের পোস্টে এই পর্যন্তই, তুমি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমাদের বাকি পোস্ট গুলো দেখতে পারো।
Read More:  রচনাঃ বাংলাদেশের নদনদী
Fahim Raihan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *